কুসংস্কারের ফাঁদে, গ্রাম থেকে করোনা তাড়াতে সাংঘাতিক কান্ড ঘটালো এক যুবক

দেশ থেকে করোনা তাড়াতে কেউ সচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন, তো কেউ আবার যাগযজ্ঞ করছেন। কেউ কেউ আবার দেবদেবীর আরাধনা করছেন। কিন্তু গুজরাটের এই যুবক যা করলেন, তা চিন্তাতীত। গ্রাম থেকে করোনা তাড়াতে স্বপ্নাদেশ পেয়ে নিজের জিভ কেটে ফেললেন মন্দিরের কর্মচারী। এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে গুজরাটের এক গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র খবর, বছর কুড়ির ওই যুবক রবীন্দ্র শর্মার আদিবাড়ি মধ্যপ্রদেশে মোরেনা জেলার। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি মধ্যপ্রদেশের। লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। একইসঙ্গে অব্যহত মৃত্যুও। স্বভাবতই সেই পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন রবীন্দ্র। গত ১৫ মাস যাবৎ সে গুজরাটের সুইগামের ভবানী মাতা মন্দিরে কর্মরত।
ইতিমধ্যে রবীন্দ্র স্বপ্নাদেশ পান বলে জানান। স্বপ্নে দেখেন, দেবী এসে তাঁকে বলছেন, তিনি নিজের জিভ কেটে ফেললে গ্রাম থেকে করোনা চলে যাবে। স্বপ্নাদেশ পাওয়ামাত্র নারবেট এলাকার নাদেশ্বরী মাতার মন্দিরে যান ওই যুবক। সেখানে ধারালো ব্লেড দিয়ে নিজের জিভ কেটে ফেলেন রবীন্দ্র। প্রচুর রক্তপাত হতে থাকায় সেখানে জ্ঞান হারান তিনি। শেষপর্যন্ত বিএসএফ জওয়ানরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করেন। আপাতত তিনি সুস্থ আছেন বলেই খবর।
এদিকে কোনও ধরণের কুসংস্কারের বিশ্বাস না করার আবেদন জানিয়েছেন বিএসএফ জওয়ানরা। তাঁধের কথায়, করোনা তাড়াতে কোনও কুসংস্কার নয়, বরং সরকারি নিয়ম মেনে চলাই একমাত্র উপায়। তাঁরা আমজনতাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্কে নাকৃ-মুখ ঢাকতে, বারবার হ্যান্ড ওয়াশ বা সাবান দিয়ে হাত ধুতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার দুনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এ ধরণের ঘটনায় বিতর্ক ছড়িয়েছে।