কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে ৭ লক্ষ শূন্যপদ
বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং তার আওতায় থাকা দপ্তরগুলিতে ফাঁকা পড়ে রয়েছে প্রায় সাত লক্ষ পদ। সবথেকে বেশি শূন্যপদের সংখ্যা রয়েছে রেলে। আজ লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রকওয়াড়ি শূন্যপদের তথ্য পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষকুমার গঙ্গওয়ার। তাতেই উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার আগে নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি বছরে দু’কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন মোদি। এবার শ্রমমন্ত্রকের পেশ করা এই তথ্যে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি মোদির বছরে দু’কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিতেই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠতে চলেছে? আজ লোকসভায় লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষকুমার গঙ্গওয়ার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘শূন্যপদ তৈরি হলেই তা সঙ্গে সঙ্গে এসএসসি, ইউপিএসসির মতো নিয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়োগে সত্যিই দেরি হচ্ছে। তবে এর জন্য সম্ভবত আইনি জটিলতাই দায়ী।’
এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লোকসভায় যে তথ্য পেশ করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, সারা দেশে সরকারি ক্ষেত্রে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৩৮ লক্ষ ২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে ধরা হয়েছে তিনটি ক্যাটিগরিকে। গ্রুপ এ (গেজেটেড), গ্রুপ বি (গেজেটেড), গ্রুপ বি (নন-গেজেটেড) এবং গ্রুপ সি (নন-গেজেটেড)। মোট অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩১ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৫৬টি পদে সরকারি কর্মী রয়েছেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে শূন্যপদের সংখ্যা মোট ৬ লক্ষ ৮৩ হাজার ৮২৩টি। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী পেশ করা তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, রেলে শূন্যপদের সংখ্যা আড়াই লক্ষেরও বেশি। ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৬৯টি। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং তার আওতায় থাকা দপ্তরগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি অনুমোদিত পদ রয়েছে রেলমন্ত্রকেই। রেলে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১৫ লক্ষ ৭ হাজার ৬৯৪টি। কর্মী রয়েছেন মোট ১২ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩২৫টি পদে। রেলমন্ত্রকের পরে সবথেকে বেশি অনুমোদিত পদ রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৬৩১টি। অথচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে শূন্যপদ রয়েছে মাত্র ৭২ হাজার ৩৬৫টি। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষকুমার গঙ্গওয়ারের পেশ করা এদিনের তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে শূন্যপদের সংখ্যা মোট ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৪টি। এখানে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪৭৬টি। শ্রমমন্ত্রকে শূন্যপদের সংখ্যা ২ হাজার ২৬৬টি। এদিন গঙ্গওয়ার লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ‘২০১৮ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপেন্ডিচার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে শূন্যপদের এই বিস্তারিত খতিয়ান পেশ করা হয়েছে।’ ফলে মনে করা হচ্ছে, এই এক বছর সময়ে উল্লিখিত তথ্যের কিছু হেরফের হয়ে থাকতে পারে।
আজ লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘সারা দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম (পিএমইজিপি), মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম (এমজিএনআরইজিএ), পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীণ কৌশল্যা যোজনা (ডিডিইউ-জিকেওয়াই), দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-ন্যাশনাল আর্বান লাইভলিহুডস মিশনের (ডিএওয়াই-এনইউএলএম) মতো একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কর্মসংস্থানে উৎসাহ দিতে শ্রমমন্ত্রক প্রধানমন্ত্রী রোজগার প্রোৎসাহন যোজনা (পিএমআরপিওয়াই) নামে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যেখানে সমস্ত ক্ষেত্রের নতুন কর্মচারীদের ইপিএফ এবং ইপিএসের ১২ শতাংশ এমপ্লয়ার্স কন্ট্রিবিউশন প্রথম তিন বছরের জন্য মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। এই প্রকল্পে ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৮ লক্ষ উপভোক্তা যোগ দিয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

