জল কিনতে বাড়ি বেচার উপক্রম সাথে নিচু জাতেরা যাতে জল নিতে না পারে, পাহারা উঁচু জাতের মানুষের
৯০০০ লিটার জলের দাম ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। পাড়ার কুয়ো থেকে লটারি করে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি জল সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে
দক্ষিণ ভারতে জলের সঙ্কট ক্রমশ পৌঁছে যাচ্ছে আরও অবনতির দিকে। অবস্থা এমনই যে জল কিনতে বাড়ির ঘটি-বাটি বেচে দিতে হচ্ছে তামিলনাড়ুর বাসিন্দাদের। প্রায় ৭০০-৮০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে জলের ট্যাঙ্ক। অবশ্য টাকা দিলেও বাড়িতে সেই জল পৌঁছতে পেরিয়ে যাচ্ছে এক মাস। জলসঙ্কটের কারণে শহরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক হোটেল। জল বাঁচাতে কাগজের প্লেটে খাওয়াদাওয়া করছেন বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে ৯০০০ লিটার জলের দাম ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। পাড়ার কুয়ো থেকে লটারি করে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি জল সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাইরে থেকে চড়া দামে জল কিনতে হওয়ায় বাড়ির আসবাবপত্রও বেচে দিতে হচ্ছে মানুষকে।
জল অপচয় বন্ধ না করলে এবং পরিবেশরক্ষায় নজর না দিলে, সারা দেশেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে কিন্তু আর বেশি দিন নেই।
এদিকে আবার শুরু হয়েছে জল নিয়ে জাতপাত তাতে আরও বিপদ বেড়েছে নিচু জাতের মানুষের
কল থেকে জল নেওয়া তো দূরের কথা, ট্যাঙ্কারের কাছেও যাওয়া বারণ তাঁদের। এমনকী সেইসব টিউবওয়েল এবং কলের সামনে নাকি সবসময় লাঠি হাতে মজুত থাকেন দু’জন করে ‘পাহারাদার’! দলিতরা জল নিতে এলে লাঠি দিয়ে মারাই তাদের কাজ
দক্ষিণ ভারতে জলের অভাব কতটা ভয়ঙ্কর পর্যায় পৌঁছে গিয়েছে সে নিয়ে রোজই সামনে আসছে নানা খবর। তবে জলসঙ্কটের ভয়াবহতার দিক দিয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই উত্তরপ্রদেশও। সে রাজ্যের বুন্দেলখণ্ড জেলার চিত্রকূট এলাকায় জলের অভাবের সঙ্গে জাতিভেদ প্রথাও জুড়ে গিয়ে, কিছু মানুষের জন্য বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও গরমকালে এলাকার প্রায় সমস্ত কল ও হ্যান্ড পাম্প জলশূন্য। বাইরে থেকে ট্যাঙ্কার ভাড়া করে এনে জল নেওয়া হচ্ছে। সেই সমস্ত ট্যাঙ্কার দলিত বস্তির ভিতর দিয়ে চলে গেলেও সেখানে দাঁড়ায় না। ফলে, জল আনতে বস্তির বাইরের কলেই যেতে হয় তাঁদের। আর এটাই একেবারে পছন্দ নয় ‘উচ্চ জাত’-এর মানুষদের। কল থেকে জল নেওয়া তো দূরের কথা, ট্যাঙ্কারের কাছেও যাওয়া বারণ দলিতদের। এমনকী সেইসব টিউবওয়েল এবং কলের সামনে নাকি সবসময় লাঠি হাতে মজুত থাকেন দু’জন করে ‘পাহারাদার’! দলিতরা জল নিতে এলে লাঠি দিয়ে মারাই তাদের কাজ! বাদ পড়েন না মহিলা ও শিশুরাও। প্রসঙ্গত, ওই দলিত বস্তির মধ্যে রয়েছে একটি মাত্র জলের কল, সেটিও খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে কয়েক বছর ধরেই। গ্রামের প্রধানকে বস্তিবাসীরা সেটি সারিয়ে দিতে বললেও, তিনি সটান ‘না’ বলে দিয়েছেন!


