মনি রত্ন বিকল্পের সন্ধানে 

বর্তমান সময়ে প্রতিটি মণিরত্নই অত্যন্ত দুর্মূল্য হয়ে পড়েছে। প্রকৃত নিখুঁত ভালো রত্ন কিনতে গেলে বহু অর্থ ব্যয় করতে হয়। বহু সংখ্যক লোকেরই এই  দাম দিয়ে রত্ন কেনার সামর্থ্য থাকে না।
কিন্তু আমাদের জ্যোতিষ শাস্ত্রের প্রতিটি রত্নেরই এক বা একাধিক বিকল্প আছে এই বিকল্পগুলি অনেক কম টাকায় ধারণ করা যায় এবং সাধারন লোকের পক্ষে সহজেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা শ্রেয় প্রথমেই আসা যাক,
রবি গ্রহের কথায়, রবিকে গ্রহ রাজ বলা হয় কারণ আমাদের সৌরমণ্ডলের অস্তিত্ব রবির উপর নির্ভরশীল। তাই রবির অপর নাম জীবন। রবির আলোকেই আলোকিত আমাদের এই সৌরমন্ডল। রবি গ্রহের রত্ন হল চুনি। এই চুনির ভিতর যেটি গাঢ় রক্তবর্ণ অর্থাৎ ডালিমের দানার মতো সেটি শ্রেষ্ঠ বলা হয়। বার্মিজ চুনির অনেক দাম। কিন্তু বর্তমানে এই চুনির দাম অত্যন্ত বেশি হওয়ায় ষ্টার রুবি বলে একটি পাথর ধারন করা যায়, স্বচ্ছ ষ্টার রুবি চুনির বিকল্প হিসেবে ভালো কাজ দেয় এছাড়া বিশুদ্ধ তামার আংটি ধারন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও রবি গ্রহের জন্য বিল্ব মূল ব্যবহার করা যায়। এই রবি গ্রহের ইস্ট দেবী মাতঙ্গী দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী সঠিক ভাবে প্রস্তুত মাতঙ্গী কবচ ধারণ করলেও চুনির মতো একই ফল পাওয়া যায়।
বিভিন্ন রকমের টোটকা র জন্য এই App টি Download করে নিন। –> Download
চন্দ্রের জন্য প্রাকৃতিক মুক্তা ধারণ করা বিধেয়। অতীতে বসরাই মুক্তা ছিল বিশ্ব বিখ্যাত। তার গুণমান এবং সৌন্দর্য বাদশাদেরও মুগ্ধ করেছিল, ধনী ব্যক্তিরা বসরাই মুক্তার মালা ধারণ করতো এছাড়াও সিংহলী এবং বার্মিজ মুক্তার ও খ্যাতি আছে। মুক্তা ধারণ মনকে শান্ত করে কিন্তু বর্তমান সময়ে বসরাই মুক্তা খুবই দুর্লভ। এর বিকল্প হিসেবে ধারণ করা হয় মুনস্টোন। এটা দামের দিক থেকে অনেক সস্তা, এই পাথরটি শ্রীলংকা অঞ্চলে প্রচুর পাওয়া যায়। জন্মছকে চন্দ বিরুপ থাকলে এই পাথর ধারন করা হয়। এই পাথর ধারণে মন শান্ত থাকে, মানসিক অস্থিরতা দূর হয়, চন্দ্রের ইস্ট দেবী কমলা দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী। পাথরের সমান একি ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও দোষ খন্ডনের জন্য ক্ষিরিকা মূল ধারণ করার বিধান শাস্ত্রে আছে।
মঙ্গল গ্রহের ওপর মানুষের জীবনের অনেক কিছু নির্ভর করে। বিবাহ, জমি-বাড়ি, সাহস, বিভিন্ন দুর্ঘটনা ইত্যাদি মঙ্গলের জন্মছকের অবস্থানের উপর নির্ভর করে। মঙ্গলের ধারণীয় রত্ন হলো লাল পলা। ইতালিয়ান গাঢ় লাল পলাকে শ্রেষ্ঠ রত্ন বলা হয়। ইংরেজিতে এই রংটিকে বলা হয় Oxian Blood। এই পলা ধারন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়া লাল রংয়ের স্ফটিক অনেকে ধারণ করে। মঙ্গলের ইষ্টদেবী বগলা। এই বগলা দেবীর কবচ ধারন করলে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়। এছাড়াও অনন্ত মূল ধারন করলে মঙ্গল গ্রহের দোষ কাটায়। বিশেষত মামলা, জমি, বৈবাহিক সমস্যা, তে মঙ্গলের উপায় করলে ভালোফল পাওয়া যায়।
বুধ গ্রহের রত্ন হিসাবে পান্না ধারণ করা হয়। আবার এই পান্নার ভিতরে ব্রাজিলিয়ান এবং কলম্বিয়ান পান্না হচ্ছে শ্রেষ্ঠ। এর রং সবুজ শ্যাওলার মত। পান্নার অধিক মূল্যের জন্য পাথর হিসেবে অনিক্স ধারণ করা যায়। এই পাথর কে অনেকে উন্নতির সূচক মনে করেন। কিন্তু নকল থেকে সাবধান থাকা দরকার অনেকে আবার সবুজ বর্ণের জারকন ধারণ করে। বুধের ইষ্ট দেবী দেবী ত্রিপুরা সুন্দরী। সঠিক ভাবে প্রস্তুত ত্রিপুরা সুন্দরী কবচ ধারনেও একই ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও বুধ গ্রহের দোষ নাশ করে বৃহদ্দারক মূল। এই মূল রক্তবর্ধক, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণতায় খুবই উপকারী।
বৃহস্পতি গ্রহের মূল রত্ন পীত পোখরাজ। অনেকে একে পীত পুষ্পরাগ মণি বলে থাকে। বৃহস্পতি হোল দেবগুরু এবং সমস্ত শুভত্তের কারক। জ্ঞান, মেধা প্রভৃতির বিকাশ ঘটে বৃহস্পতি শুভ থাকার জন্য। এর বিকল্প হিসেবে হলুদ টোপাজ ধারণ করা বিধেয়। তবে টোপাজ এর ওজন বেশি হওয়া দরকার অন্তত ১২ থেকে ১৫ রতি ধারণ করা শ্রেয়। বৃহস্পতির দেবী মা তারা সেজন্য মা তারা কবচ ধারণ করলে উপযুক্ত ফল পাওয়া যায়। আবার তারা দেবীর আর এক কবজ নীল সরস্বতী ধারণ করলে পড়াশোনায় শুভ হয় এবং অমনোযোগ দূর হয় এছাড়াও বৃহস্পতি গ্রহের দোষ খন্ডনের জন্য বক্ষজষ্টি নামক মূল ধারণ করলেও উপকার পাওয়া যায়।
শুক্র গ্রহের প্রধান রত্ন হীরা। হীরা সারা বিশ্বে খুবই জনপ্রিয়। বিশেষত দক্ষিন আফ্রিকার জোহেনেসবারগ এর হীরা খুবই বিখ্যাত। কিন্ত হীরার অত্যধিক দামের জন্য সাধারন লোকের ক্রয় করার ক্ষমতা হয় না। তাই এর বিকল্প হিসাবে সাদা জারকন বা সাদা পোখরাজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে এছাড়াও শুক্রের ইষ্টদেবী ভুবনেশ্বরী। তার পুজা অর্চনা করে কবচ  ধারন বা রামবাসকের মূল ধারন করলেও একই ফল পাওয়া যায়।
শনি গ্রহের মূল রত্ন নীলা। এই নীলা সাধারনত তিন রকমের হয়। যথা ইন্দ্রনিলা, অপরাজিতা, এবং রক্তমুখী নীলা। কিন্ত এই সব নীলা র দাম অনেক এবং এই নীলা শ্রীলংকা তে বেশী পাওয়া যায়। সেই জন্য এর বিকল্প হিসাবে নীল জারকন এবং নীলি নামে একটি পাথ্র ব্যবহার করা যায়। তবে অনেকে এমিথিষ্ট পাথর নীলার বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও শনির ইষ্টদেবী  দক্ষিনা কালী, এই দেবীর কবচ ধারন করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও শেত বেড়েলা র মূল ধারন করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
এবারে দুটি ছায়া গ্রহ রাহু এবং কেতু, রাহুর রত্ন হল গোমেদ, এই গোমেদের রং গাঢ় সরষের তেলের মত হওয়া উচিত।সিঙ্ঘলী গোমেদকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়। গোমেদের বিকল্প হিসাবে ছিন্নমস্তা কবচ ধারন করা যায়। এছাড়াও শেতচন্দন মূল রাহুর প্রতিকার হিসাবে ব্যবহার করা যায়।
কেতুর রত্ন হল বৈদূর্যমণি যাকে আমরা ক্যাটসাই নামেও চিনি।এই পাথরটি সবুজ বর্ণের বাঁশপাতার রঙের হয় আবার একটু হলুদ বর্ণেরও হয়। এর বিকল্প হিসাবে রাজপট্ট নামে পাথরও ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও কেতুর ইষ্টদেবী ধূমাবতির কবচ পরলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। এবং অশ্বগন্ধা মূল ধারন করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
তবে কবচ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য প্রতিটি কবচের নির্দিষ্ট সংখ্যক জপ আছে। সেটা না করে কবচ প্রস্তুত করলে কখনোই পূর্ণ ফল লাভ যাবে না পাওয়া। এছাড়া সিদ্ধপীঠ, সতী পীঠ, ইত্যাদি জায়গায় কবচ তেইরী করলে তা খুব শক্তিশালী হয়।