প্রস্তুতি তুঙ্গে তারাপীঠে! জেনে নিন কৌশিকী অমাবস্যার নির্ঘণ্ট
জেনে নিন বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে ২০১৯ সালের (১৪২৬ সনের) কৌশিকী অমাবস্যার নির্ঘণ্ট ও সময়সূচি…


এবার কৌশিকী অমাবস্যায় তারামায়ের মাথায় উঠবে ৩০ ভরি ওজনের স্বর্ণমুকুট। পাশাপাশি গর্ভগৃহের চূড়ায় পড়বে রামধনু রংয়ের আলোর ছটা। এমনই উদ্যোগ নিয়েছে মন্দির কমিটি ও তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সাধারণত মাকে রুপোর মুকুটেই দেখে অভ্যস্ত পুণ্যার্থীরা। কিন্তু, এবার কৌশিকী অমাবস্যায় মায়ের ভিন্ন রূপের দর্শন মিলবে। বৃহস্পতিবার অমাবস্যা তিথি পড়ার পরই ৩০ ভরি ওজনের মুকুট পরানো হবে মাকে। এছাড়া কয়েক ভরি সোনার অলঙ্কারে সাজিয়ে তোলা হবে তারা মাকে। শুধু মাকে নয়, একইভাবে সাজিয়ে তোলা হবে মায়ের গর্ভগৃহ। মন্দিরের চূড়ার গায়ে আলোকসজ্জার মাধ্যমে ফেলা হবে রামধনুর সাতটি রঙের আলোর ছটা। এছাড়া একাধিক এলইডি আলোয় ভরিয়ে তোলা হবে গোটা মন্দির চত্বর। প্রতি মুহূর্তে সেই রঙে পরিবর্তন আনা হবে। মায়ের এই অপরূপ রূপের দর্শনের সুযোগ করে দিতে বৃহস্পতিবার সারারাত খোলা থাকবে গর্ভগৃহের দরজা।
মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় ও সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় বলেন, মাকে মুকুট মালা সহ কয়েক ভরি সোনার অলঙ্কার পরিয়ে দেবী কৌশিকী রূপে বিশেষ পুজো অচর্না করা হবে। মায়ের সেই রূপ দেখতে হুড়মুড়িয়ে পড়বে ভক্তরা। কারণ, অমাবস্যার পরের দু’দিন শনি ও রবিবার। তাই এবার ভক্তের সমাগম বিগত বছরের রেকর্ড ভেঙে দেবে। যাতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়, সেই কারণে ভক্তদের ঢোকার ও বেরনোর পথ আলাদা করা হয়েছে। 
এবার কৌশিকী তিথিতে পালা পড়েছে সেবাইত পুলক চট্টোপাধ্যায়ের। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত যত বাড়বে, পাল্লা দিয়ে বাড়বে ভিড়ও। তাই ওইদিন সারারাত মন্দির খোলা থাকবে। শুধুমাত্র গভীর রাতে ১৫ মিনিটের জন্য মাকে বিশ্রাম দেওয়া হবে। 
এদিকে, মন্দির থেকে একটু দূরের চিলা কাঁদর সংলগ্ন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কংক্রিট গেটে মা তারার মুখ নীল-সাদা আলোয় ঝরে পড়ছে। গেটেও নানা রঙের আলোর ছটা ফেলা হবে। মনসুবা মোড় থেকে ফুলিডাঙা মোড় পর্যন্ত সাত কিলোমিটার রাস্তা এলইডির আলোয় ঝলমলে হয়ে উঠবে। এমনটাই দাবি টিআরডিএর কর্তাদের। 
মায়ের এই অপরূপ দর্শন পেতে ভক্তদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়বে, সেটা উপলব্ধি করতে পেরেই ব্যবস্থাও নিয়েছে টিআরডিএ। যাঁরা অত্যধিক ভিড়ে গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারবেন না তাঁদের জন্য দ্বারকা নদের সেতু, তিন মাথা ও আটলা মোড়ে জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটে উঠবে মায়ের মুখ ও আরতির দৃশ্য। যাতে মন্দির থেকে ১৫০মিটার দূরত্বে রয়ে-বসে দর্শন পেতে পারেন পুণ্যার্থীরা। সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টিআরডিএর ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়। একইভাবে আলোকিত করা হবে জীবতকুণ্ড। তারাময়বাবু বলেন, দিনকয়েক আগে জীবতকুণ্ডর জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় বিহারের এক পুণ্যার্থীর। তাই এবার পর্যাপ্ত আলোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট ঘাট করে দেওয়া হয়েছে। সেই ঘাট দিয়ে পুণ্যার্থীরা নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত জলে নেমে স্নান করতে পারবেন। নজরদারি চালাবে মন্দিরের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরা।
এদিকে মঙ্গলবার থেকেই ভিন রাজ্যের বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের পুণ্যার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে বামাখ্যাপার এই সাধনাস্থলে। ঝাড়খণ্ড থেকে পরিবার নিয়ে আগত সুরেশ যাদব বলেন, গতবার কৌশিকী অমাবস্যার দিন এসে ফাঁপড়ে পড়েছিলাম। হোটেল না পেয়ে খোলা আকাশের নীচেই পরিবার নিয়ে রাত কাটিয়েছি। তাই এবার আগে থেকেই চলে এসেছি। আর এক পুণ্যার্থী বিহারের বাসিন্দা সাধনা কুমারি বলেন, দু’বছর আগে ভিড়ের ঠেলায় দেবী কৌশিকীর দর্শন না করেই ফিরতে হয়েছে। তাই এবার আগে থেকেই পুজোর লাইনে দাঁড়াব। যাতে মা তারাকে কৌশিকী রূপে সাজিয়ে তোলার পরই দর্শন পেতে পারি।
অন্যদিকে, এদিন বিকেলে কৌশিকী অমাবস্যার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেখতে তারাপীঠে আসেন জেলা পুলিস সুপার শ্যাম সিং, জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা। পরে টিআরডিএর কনফারেন্স হলে প্রশাসনিক বৈঠকও করেন। সেখানে কৃষিমন্ত্রী তথা টিআরডিএর চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। জেলাশাসক বলেন, পুণ্যার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য পানীয় জল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, দমকল সহ সব ধরনের ব্যবস্থাই রাখা হচ্ছে। এদিন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন তারাপীঠের পার্কিংগুলি ভর্তি হয়ে গেলে রামপুরহাটের মনসুবা মোড়ে গাড়ি ঢোকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? উত্তরে জেলাশাসক বলেন, মনসুবা থেকে তারাপীঠ আসার জন্য বিভিন্ন ছোট যানবাহন চলাচল করবে। অন্যদিকে আশিসবাবু বলেন, কৌশিকী তিথি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইছি। 
২৯ অগস্ট, বৃহস্পতিবার এ বছরের কৌশিকী অমাবস্যা। ওই দিন সন্ধ্যা ০৭টা ৫৬ মিনিট থেকে লাগছে অমাবস্যা। তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে বিশেষ নিশি পূজার আয়োজন করা হয়। মহাভোগ ও মহা রাজবেশে মায়ের এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই অমাবস্যাকে ‘তারা রাত্রি’ও বলা হয়। তন্ত্র সাধনার জন্য আজকের এই অমাবস্যাকে খুবই গুরুত্বপুর্ণ বলে মনে করা হয়। শোনা যায়, কৌশিকী অমাবস্যাতেই তারাপীঠ মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল বৃক্ষের নিচে তারা মায়ের অরাধনায় সাধক বামা ক্ষ্যাপা সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। সেই কারণে এই তারাপীঠকে ‘সিদ্ধিপীঠ’ও বলা হয়ে থাকে।
আসুন এ বার জেনে নেওয়া যাক বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে ২০১৯ সালের (১৪২৬ সনের) কৌশিকী অমাবস্যার নির্ঘণ্ট ও সময়সূচি…
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে:

অমাবস্যা: ১২ ভাদ্র ১৪২৬, (ইং তারিখ: ২৯ অগস্ট, ২০১৯) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ০৭টা ৫৬ মিনিট থেকে ১৩ ভাদ্র ১৪২৬, (ইং তারিখ: ৩০ অগস্ট, ২০১৯) শুক্রবার বিকেল ৪টে ০৭ মিনিট পর্যন্ত।

গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে:

অমাবস্যা: ১১ ভাদ্র ১৪২৬, (ইং তারিখ: ২৯ অগস্ট, ২০১৯) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিট থেকে ১২ ভাদ্র ১৪২৬, (ইং তারিখ: ৩০ অগস্ট, ২০১৯) শুক্রবার বিকেল ৪টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত।