অনেকগুলো মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এবং নিউরো-ভাষাগত প্রোগ্রামিং টিপস রয়েছে এবং সেগুলো সম্পর্কে লক্ষ লক্ষ বই এবং আর্টিকেল রয়েছে। এই কৌশলগুলির মধ্যে কতকগুলো বিষয় প্রতারণা এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে, আবার কতকগুলো বিষয় দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করা যায়।
আজকে আমরা বিভিন্ন পেশাদারীদের শেয়ার করা মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের কিছু তালিকে সংগ্রহ করেছি।
১. কোন ব্যক্তিকে এমন কিছু জিজ্ঞাসা করবেন না, যা ‘আপনি কি…’ দিয়ে শুরু হয়। এতে, তারা মনে করেন যে এটি একটি তাত্ত্বিক প্রশ্ন। উদাহরণস্বরূপ- কখনোই বলবেন না যে, ‘আপনি কি প্রতিবেশীদের ডাক দিতে পারবেন? কারণ ‘হ্যা’ উত্তরটির মানে ‘হ্যা’, তাত্ত্বিকভাবে আমি পারবো’। তাই আপনি অন্যভাবে আপনার অনুরোধটা প্রকাশ করুন, যেমন- ‘দয়াকরে, প্রতিবেশীদের একটু ডাক দিন’।
২. আপনি যদি কাউকে বিব্রত বা অস্বস্তিকর অনুভব করাতে চান, তাহলে কথা বলার সময় তাদের কপালের মাঝখানের দিকে তাকিয়ে থাকুন।
৩. আপনি যার সাথে কথা বলছেন, সে যদি আপনার প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে কথা বলা থামিয়ে তাদের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকুন। এতে তারা অস্বস্তিবোধ করবে এবং কথা বলা শুরু করবে। এমনকি, তারা আপনাকে আরো বিশদ বিবরণ দিতে পারে বা সত্য কথা বলবে। যদি তারা মিথ্যা কথা বলে তাহলে আপনি নীরবে থাকুন এবং আপনি এমনভাবে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকুন যেন তাদের মনে হয় আপনি ইতোমধ্যে সত্যটা জানেন।
৪. আপনি যদি কারো সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান(কাজের সময়), তাহলে সেই ব্যক্তিকে কিছু বলতে বা ব্যাখ্যা করার জন্য অনুরোধ করেত পারেন, এমনকি যদিও আপনার সেই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকে। এটি আপনার প্রতি তার সামগ্রিক মনোভাব বিকশিত করবে।
৫. প্রশ্ন করার সময় আপনার মাথা নাড়ান। সম্ভবত, এতে আপনি একটি ইতিবাচক উত্তর পাবেন।
৬. যদি একজন ব্যক্তি কোন কাজে এতো মনোনিবেশ করে (উদাহরণস্বরূপ, একটি গুরুতর কথোপকথনের মাঝখানে), আপনি আপনার হাত তার দিকে বাড়াতে পারেন এবং মুহূর্তে সে হাতে যা ধরে ছিল তা আপনার হাতে তুলে দিবে পারে। এমনকি সে পরে সেটির কথা মনে রাখতে পারবে না। এই ট্রিকটি অন্য উপায়েও কাজে লাগানো যায়, যেহেতু সে কোন কিছু লক্ষ্য করে না তাই আপনি যেকোন কিছু তাকে দিতে পারেন। সেটা ভাল উদ্দেশ্যেও হতে পারে আবার নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নেতিবাচক কিছুও হতে পারে। আশা করি আপনি খারাপ কিছু করবেন না।
৭. আপনি সহজেই যে কাউকে বলতে পারেন যে, তারা কোন কিছু করতে পারে না। পরে আপনি দেখতে পাবেন তারা আপনাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য সত্যিই অনেক কিছু করার চেষ্টা করবে।
৮. আপনি যদি কথা বলার সময় আপনার মাথা সামান্য নাড়ান, তাহলে আপনি যে ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন সে অবচেতন মনেই আপনার কথার দিকে আরো বেশি মনোযোগী হবে।
৯. কেউ যদি ট্রেনে বা বাসে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে, তবে আপনি তার জুতোর দিকে তাকিয়ে দেখুন। হাল ছেড়ে দিবেন না। বিশ্বাস করুন, এটা তার মাথা খারাপ করে দিবে।
১০. আপনি যদি জনসাধারণের সামনে কথা বলতে চান, তাহলে আপনার সাথে পানির বোতল নিতে ভুলবেন না। আপনার যখন মনে হবে যে, আপনি কি বলতে চাচ্ছিলেন তা ভুলে গেছেন, তাহলে সেইসময় কিছু পানি পান করুন এবং তখন কেউই খেয়াল করবে না যে আপনি ভুলে যাবার কারণে কিছুক্ষণ বিরতি নিচ্ছেন।

