১০০% সোলার এনার্জিতে চলা পৃথিবীর একমাত্র দেশ “টোকেলাউ”

নিউজিল্যান্ডর পাশেই ছোট্ট দ্বীপ এখন পথদর্শী। ১০০% সোলার এনার্জিতে চলা পৃথিবীর একমাত্র দেশ “টোকেলাউ”।
বিশ্বের সবচাইতে বড় কান্ট্রি কোড ডোমেইনও এই দেশের।
প্রশান্ত মহাসাগরে বিন্দুর চেয়েও ছোট এই দেশটি জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর চতুর্থ ক্ষুদ্রতম দেশ। প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দেশের জনসংখ্যা মাত্র ১৪৯৯ জন। এর মানচিত্র আলাদা, অদ্ভুত…
প্রশান্ত মহাসাগরের একেবারে মাঝখানে তিনটা ছোট ছোট রিং বা আংটি আকৃতির দ্বীপ নিয়ে “টোকেলাউ” গঠিত। তিনটি রিং এর নাম “আতাফু”, “নুকুননু” এবং “ফাকাওফা”। যার মধ্যে রাজধানী আতাফু, এবং সবচাইতে বড় শহর ফাকাওফা। আংটির রিং অংশটিতেই মানুষ থাকে, আর মাঝের অংশটুকু নীল জলের স্বচ্ছ লেগুন। এর তিনটি দ্বীপের মধ্যে চলাচলের একমাত্র বাহন জলযান।

“টোকেলাউ”-এর অধিবাসীদেরকে “টোকেলায়ান” বলা হয়, এদের ভাষাও “টোকেলায়ান” তবে সবাই ইংরেজি জানে। এদের ধর্ম ক্রিশ্চিয়ান। মুদ্রার নাম নিউজিল্যান্ড ডলার। “টোকেলাউ” মূলত ওশেনিয়া মহাদেশে পড়েছে, এর অর্থ “উত্তুরে বাতাস”, ১৭৭৬ সালে জন বায়রন নামের একজন সর্বপ্রথম “টোকেলাউ”-এর “আতাফু” অংশটি আবিস্কার করেন। এই আতাফুই এখন “টোকেলাউ” এর রাজধানী। ১৮৭৭ সালে এটি ইংল্যান্ড এর নিয়ন্ত্রণাধীন হয়। ১৯৪৬ সালে এর নামকরণ করা হয় বর্তমান “টোকেলাউ”-নামে। এর নাগরিকরা ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অফিশিয়ালি নিউজিল্যান্ড এর নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
২০১৬ সালের ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের সবচাইতে বড় কান্ট্রি কোড ডোমেইন হলো “টোকেলাউ”। তাদের .tk ডোমেইনটি চায়না এবং জার্মানির (একত্রে) চেয়েও বড়!! এই ইন্টারনেটের জন্যই তাদের জিডিপি ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে “ফাকাওফো”- দেশের সবচাইতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট এলাকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

“টোকেলাউ” এর ভুমির সর্বোচ্চ উচ্চতা সাড়ে ৬ ফুট, সাধারণ জোয়ারের সময় এই দেশের অনেক অংশই পানির নিচে চলে যায়, সমুদ্রের পানির লেভেল বাড়তে থাকলে যেকোনো সময় এটি তলিয়ে যাবে। এই দেশে কোন জেলখানা নেই। যদি কেউ অপরাধ করে তাহলে তাকে কিছু জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয় অথবা কাজ করতে হয়।
১০০% সোলার এনার্জি হওয়ার পরেও এই দেশটি পৃথিবীর সবচাইতে দরিদ্র অর্থনীতির দেশ। দেশ চালাবার জন্য তাদেরকে নিউজিল্যান্ড থেকে সাবসিডি নিতে হয়।

সামোয়া’র মতো “টোকেলাউ”ও তাদের ক্যালেন্ডার থেকে ২০১১ সালে ৩০শে ডিসেম্বর বাদ দিয়েছে, ফলে তারা গ্রিনিচ মান অনুযায়ী এখন ১৩ঘন্টা সময় এগিয়ে থাকে।

“টোকেলাউ” এর তিনটি আংটির প্রতিটিতেই একটি করে স্কুল এবং হাসপাতাল আছে এবং প্রতিটিতেই একটি করে রেডিও স্টেশন আছে। মজার ব্যাপার হলো এই দেশের প্রায় ৪৫% শিশুর জন্ম হয় নিউজিল্যান্ডে। এখানকার বাচ্চারা উচ্চশিক্ষার জন্য নিউজিল্যান্ডে চলে যায়, এবং ২৫শে ডিসেম্বর বড়দিনের সময় নিজেদের বাড়িতে ফিরে আসে।
এত ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও এর অধিবাসীরা ২০০৭ সালে প্যাসিফিক গেমসে তিনটি স্বর্ণ, একটি সিলভার এবং একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে।
টোকেলাউ-তে সরকারিভাবে একটি নিউজলেটার পাবলিশ করা হয়, যার নাম “তে-ভাকাই”। পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশের একটি হলেও ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে টোকেলাউ-তে ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি কোড ব্যবহার শুরু হয়। পাঁচ ডিজিটের এই টেলিফোন নাম্বার শুরু হয়েছে ৬৯০ দিয়ে।

এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটিতে কিছু না থাকার মধ্যেও ৩৮ রকমের গাছ আর ১৫০ রকমের পোকামাকড় আছে, সাথে আছে ১০ রকমের কাঁকড়া। এই উদ্ভিদগুলোর জন্য সবচাইতে বড় হুমকি হলো এদের পলিনেশিয়ান ইঁদুর!
২০১১ সালে “টোকেলাউ” তাদের সম্পূর্ণ সমুদ্রসীমা ৩,১৯,০৩১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে “হাঙ্গর স্যাংচুয়ারি” এলাকা হিসেবে ঘোষণা দেয়।

টোকেলাউ-তে কোন বিমানবন্দর নেই, এখানে যেতে হলে প্রথমে “সামোয়া”-তে যেতে হবে, সেখান থেকে ২৪ ঘন্টার বোট জার্নি করে পৌছাতে হবে প্রশান্ত মহাসাগরের এই আংটির দেশে।
তবে কিছু সি-প্লেন এর স্বচ্ছ নীল লেগুনগুলোতে নামতে পারে।
Collected from— logia fielder and M A Ikram
