চাকরির ইন্টারভিউতে বাজিমাৎ করবেন কিভাবে?
ছোট হোক বা বড়, দেশীয় হোক বা বহুজাতিক—যে কোনও ধরনের সংস্থার ইন্টারভিউ দিতে গেলে সংস্থাটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে যাওয়াটা আবশ্যিক। যে প্রার্থী চাকরির আশায় কোনও সংস্থাতে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছে, সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগ (হিউম্যান রিসোর্স) আগে থেকেই ধরে নেবে যে সংস্থাটির কার্যকলাপ, শাখা-প্রশাখা বা বিশেষত্ব সম্পর্কে ইন্টারভিউ প্রার্থী নিঃসন্দেহে ওয়াকিবহাল।
তাই আগাম প্রস্তুতি ভীষণভাবেই জরুরি যে কোনও ধরনের ইন্টারভিউয়ের জন্য। সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে চাকরি প্রার্থীর প্রথম দেখা ইন্টারভিউয়ের সময়েই ঘটে। উচ্চ, মধ্য বা নিম্ন—যে কোনও পদই হোক না কেন, সংস্থারও কিন্তু বিস্তর প্রত্যাশা থাকে প্রার্থীদের কাছ থেকে। যদিও কথায় আছে, ‘পহলে দর্শনধারী, উসকে বাদ গুণ বিচারি’। তবে বর্তমান সময়ে ‘সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র’—এ কথাটা মোটেই বাস্তবে খাটে না। যদিও একেকটি পেশার চাহিদা একেক ধরনের। নমুনা হিসেবে বলা যায় হোটেল এবং হসপিটালিটি (আতিথেয়তা) শিল্পে ক্যাম্পাস ইন্টারভিউ-এর সময়ে দেখা হয় প্রার্থীর উচ্চতা, শারীরিক গড়ন, হাসিখুশি মেজাজ। এমনকী গায়ের রং পর্যন্ত দেখে বহু হোটেল শিল্পগোষ্ঠী বা বিমান সংস্থা নিয়োগ করে।
ইন্টারভিউয়ের ক্ষেত্রে পোশাক ঠিকঠাক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নতুন হতে হবে তা নয়, কিন্তু তা যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবশ্যই হয়। নির্বাচকরা দেখুক আর না দেখুক প্রার্থীর নজর রাখা উচিত পায়ের নখ থেকে মাথার চুল অবধি। তবে, এক্ষেত্রেও বলে রাখা প্রয়োজন চাকরির রকম-সকমের উপর নির্ভর করছে ‘ড্রেস কোড’ কেমন হবে। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ইন্টারভিউয়ের সঙ্গে সরকারি চাকরির ইন্টারভিউয়ের ফারাক তো থাকবেই। কর্পোরেট দুনিয়ায় ব্লেজার, টাই-এগুলি আবশ্যিক। দর্শনধারী হওয়ার জন্য প্রার্থীকে দাড়ি-গোঁফ-চুলের যত্ন নিতে হবে চাকরি বিশেষে। গায়ে উগ্র পারফিউমের গন্ধ না থাকলেও, যেন ঘামের দুর্গন্ধ না থাকে। এ সমস্ত কিছুই প্রযোজ্য ক্যাম্পাস ইন্টারভিউ, প্ল্যানড ইন্টারভিউ এবং ওয়াক ইন্টারভিউয়ের ক্ষেত্রে। মুখ সুন্দর হোক বা অসুন্দর কিন্তু মুখের এক্সপ্রেশনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। মার্কেটিংয়ের চাকরির জন্য গোমড়ামুখো প্রার্থীকে কেউ চাইবেন না। এক্ষেত্রে ভাবটা হওয়া উচিত চনমনে, হাসিমুখ, অফুরান জীবনী শক্তিতে ভরপুর। আবার, কেউ যখন স্কুল বা কলেজে শিক্ষকতার ইন্টারভিউয়ের জন্য যাচ্ছেন, তাঁকে নিজের বিষয়ে সর্বোত্তম হতে হবে। পরতে পরতে থাকবে চোখের গভীরতা, সরলভাবে জটিল বিষয়কে বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা।
কিছু ক্ষেত্রে দেখে যায় মিতভাষীরা ইন্টারভিউ বোর্ডকে মাত করে দিচ্ছে। কীভাবে? কারণ অল্প বাক্য ব্যয় করে অনেকে বুঝিয়ে দিতে পারে একটি দীর্ঘ বিষয়কে। এ ক্ষমতা খুব কম প্রার্থীরই থাকে। আবার উল্টোদিক দিয়ে তাদের চিহ্নিত করতে পারে অর্থাৎ সংস্থার কাজে এই ধরনের প্রার্থী কতটা নির্ভরযোগ্য এই ধরনে মানবসম্পদ আধিকারিকের সংখ্যাও খুব একটা বেশি নয়। শোনা যায়, বিশ্বখ্যাত শিল্পপতি বলেছিলেন, আমি আমার সংস্থার জন্য চটপটে দ্রুত কাজ শেষ করার মানসিকতার লোক চাই না। আমি পছন্দ করি অলস কিন্তু ট্যালেন্টেড প্রার্থীকে। কারণ, তারা কম সময়ে কাজটা শেষ করার ফিকিরটা জানে। এদেরকে দিয়ে প্রচুর কাজ করিয়ে নেওয়া যায় অল্প সময়ের মধ্যে।
এবার আসা যাক ইন্টারভিউয়ের আরেকটি দিকে। সেটা হল ইন্টারভিউয়ের দিন কী কী জিনিস নিয়ে যাওয়া উচিত এবং তা কীভাবে নেওয়া উচিত। অনেক সময় দেখা যায় (বিশেষত ওয়াক-ইন ইন্টারভিউ বা প্ল্যানড ইন্টারভিউয়ে) কাঁঠের ব্যাগ থেকে একটি বায়োডেটা বের করে নিয়োগকর্তার সামনে রাখছে প্রার্থী। মনে রাখতে হবে, টেবিলের ওপারে বসে যাঁরা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, তাঁরা সারা বছর এই কাজই করছেন। আপনার অলক্ষ্যে তাঁরা দেখে নিয়েছেন যে অনেকগুলি বায়োডেটা থেকে একটি বায়োডেটা এখানে প্রার্থী জমা দিচ্ছে। এটা মোটেই শোভনীয় নয়। ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় এক ছিমছাম ফোল্ডার নিয়ে রাখুন। তাতে থাকবে একটিই বায়োডেটা বা জীবনপঞ্জি। সঙ্গে থাকুক কাজের অভিজ্ঞতা বা শিক্ষকতা যোগ্যতার সার্টিফিকেট। অনেকগুলি বায়োডেটা নিয়ে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার অর্থ হল তারা ‘বায়োডেটা ড্রপিং’ করছে। আজ এখানে তো কাল ওখানে বা একই দিনে একাধিক জায়গায়। এ ধরনের প্রার্থীরা কিন্তু যে কোনও সংস্থার কাছে না-পসন্দ।

