তবে কি বাংলায় ঘনিয়ে আসছে রাষ্ট্রপতি শাসন? সবচাইতে বড় অঘটনটা ঘটেই গেল। দিল্লির বিজেপির সদর দপ্তরে মুকুল রায়ের উপস্থিতিতে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন এক সময়ের দিদির মেয়ে জঙ্গল মহলের মা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রাক্তন পুলিস সুপার আই পি এস ভারতী ঘোষ।
বিজেপিতে যোগ দিয়েই ভারতী ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এটা সত্যাগ্রহ নয়, অসত্যাগ্রহ চলছে।’ তিনি আরও বলেন, একসময় গান্ধীজি সাধারণ মানুষের জন্য সত্যাগ্রহ করেছিলেন। আর আজ যেখানে সাধারণের টাকা খোয়া গিয়েছে, সেই মামলায় পুলিশ অফিসারের জন্য সত্যাগ্রহ করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
একদিকে যখন সারদার বিভিন্ন তথ্য ফাইল লোপাটের দায়ে সিবি আই কলকাতার পুলিস সুপারকে জেরা করতে উদগ্রীব। সেই পুলিস সুপারকে জেরার হাত থেকে বাঁচাতে সয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী গত রাত থেকেই ধর্নায়,এমন টালমাটাল অবস্থার মধ্যেই মমতার এক সময়ের ছায়া সঙ্গী মুকুলের ছক্কায় বিজেপির ময়দানে ভারতী।
কিছুদিন আগেই ভারতীর বিজেপিতে যোগ দিয়ে ঘাটাল বিধান সভা থেকেই দাঁড়ানোর কথা উঠেছিল। তবে কি সে আসঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে?
ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে, ভারতী ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ সুপার ওয়েস্ট মেদিনীপুর সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন, তারপরে গত ২6 ডিসেম্বর গত বছর তাকে সশস্ত্র পুলিশ থার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু দুই দিন পর সে পদত্যাগ করে।
15 আগস্ট ২014 তারিখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সম্পর্কে একবার বিবেচনা করলে ঘোষকেও পদক প্রদান করা হয়। ২014 সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন তাকে হস্তান্তরিত করেছিল, তবে পশ্চিম মেদিনীপুর নির্বাচনের পরেই আবার পুনঃস্থাপন করা হয়েছিল। ২013 সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই একই পরিস্থিতি হয়েছিল, কারণ রাজ্য সরকার নিজেই স্থানান্তরিত করেছিল এবং আবার নির্বাচনের পরে পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি হিসাবে পুনর্বাসিত হয়েছিল।
তার পদত্যাগের পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাশপুর থানায় নিবন্ধিত একটি চাঁদাবাজির মামলায় ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর পর, সিআইডি ঘোষের বিভিন্ন সম্পত্তিগুলিতে ছিনতাই করেছিল, যার মধ্যে কলকাতার একটি বাড়ি ছিল, যা তার স্বামী রাজুর।
গত বছর আগস্ট মাসে কলকাতা হাইকোর্ট এমএভি রাজু এর আগাম প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি এমএভি রাজু ও ঘোষকে গ্রেফতার করেছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে, রাজু তাঁর প্রার্থনা নিয়ে আদালতে চলে যান এবং অন্য বিভাগের দ্বারা অন্তর্বর্তীকালীন অবকাশ দেওয়া হয়। এরপর আদালত তাকে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করার নির্দেশ দেয় এবং সিআইডিকে তার আগাম জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে বাধা দেয়।

