চীন এবং ভারতে, একই সময় দুটো বড়ো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Image may contain: one or more people, people standing, cloud, sky and outdoor
Image may contain: outdoor
চীন এবং ভারতে, একই সময় দুটো বড়ো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে, একটা বিরাট মূর্তি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চীনে ,সমপরিমাণ অর্থ ব্যায় করে, “বায়ু পরিশোধন যন্ত্র” (AIR-
PURIFIER) বসানো হচ্ছে। ভারতে যেটা হচ্ছে, পলিটিক্যাল প্রফিট এর আশা নিয়ে, আর চীনে যেটা হচ্ছে- জনগনকে পলিউশন থেকে মুক্তি দিতে, জনকল্যাণ মুলক কাজ হিসাবে।

এমনই এক যন্ত্র, চীনের শিয়াঙ শহরে অলরেডি প্রতিস্থাপন করা হয়ে গেছে। যন্ত্রটি ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায়
পরিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহের কাজ করে চলেছে।এই সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে চীন সরকার দেশের মোট ১২ টা
মহানগরে এই যন্ত্র প্রতিস্থাপন করতে চলেছে।

এয়ার পলিউশন সমস্যা, ভারতের বিভিন্ন শহরে, ভয়াবহ আকার ধারন করে চলেছে। কিছুদিন পর এটা মহামারী-র আকার ধারন করবে। দিল্লির প্রতি ১০০ জন শিশু এবং বৃদ্ধের মধ্যে, বর্তমানে ৩৫ জন শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকেন।বিষাক্ত
হাওয়া প্রাণঘাতী হয়ে, বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।এক একটা শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে, সঙ্ঘর্ষ করতে হচ্ছে, প্রকৃতির সঙ্গে।

“এয়ার-পিউরিফায়ার” যন্ত্র , এদেশেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু এটা লাগানো-র জন্য ,পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ, সরকারের
ভাড়াড়ে নেই,, অথচ বিশাল মূর্তি বানানোর পয়সা রয়েছে।

কোনটা বেশি জরুরি?”এয়ার-পিউরিফায়ার”, নাকি “ষ্ট্যাচু অফ ইউনিটি”? এটাই দেশের জনগণের বোধগম্য হচ্ছে না,, অথবা আমাদের তথাকথিত দেলসেবক-রা বুঝতে দিচ্ছেন না।আমাদের মূর্খামি-র কারনে, আমাদের নেতারাও বুঝে গেছেন, ভোট পেতে “বায়ু শোধন যন্ত্র” নয়, বড়ো বড়ো মূর্তির প্রয়োজন।

চীন চালাক দেশ। তারা আমাদের জন্য মূর্তি বানাচ্ছে, আর মুনাফার টাকায়, নিজেদের দেশে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের
পিছনে খরচ করছে। চীন জানে, নিজেদের বিশ্ব সাম্রাজ্যে সেরা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে, সুস্থ শরীর, আর উন্নত
আধুনিক শিক্ষা ছাড়া, কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। এদিকে আমরা “বিশ্ব-গুরু” হতে চলেছি?

চীনের জনগণ আমাদের মতো, “ইমোশনাল-গবেট” নয়, যে-তাদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে, চতুর নেতার-দল,
তাদেরকে “জাত-ধর্ম”, “মন্দির-মসজিদ” -এর নামে ভড়কে দিতে পারবে।

কৃতজ্ঞতা: আলম মিদ্দে।