
দুর্গা যার নাম আমাদের জীবনের সমস্ত অসুবিধার হাত থেকে আমাদের নিস্তার দেওয়ায়, মা ভগবতী সেই মা দুর্গার যখন পূজো হয় সেই সময় মাকে সুসজ্জিত করা হয়ে থাকে ফুল দিয়ে গয়না দিয়ে বস্ত্র দিয়ে এবং অস্ত্র দিয়ে মা দশভুজার দশ হাতে অস্ত্র থাকে।
এই অস্ত্রের ভিতরে কি কি অস্ত্র কোন হাতে থাকবে সেটি সম্পর্কে শাস্ত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা রয়েছে। এই তথ্য প্রত্যেকেই যে সঠিক জানেন সেটাই ঠিক ঠিক নয়। কারণ বহু মন্দিরে মা দুর্গার হাতে অস্ত্র-গুলি সাজানো হয়, সেগুলি সঠিকভাবে সঠিক দিকে এবং সঠিক সারিতে সাজানো হয় না।
ফল স্বরূপ মায়ের যে পূজাতে এই অস্ত্রের যে প্রধান ভূমিকা রয়েছে, সেই ভূমিকাটি সম্পূর্ণতা লাভ করতে তখনই পারবে যখন মাকে যে অস্ত্র-গুলি সাজিয়ে দেওয়া হয় সেগুলি শাস্ত্রে যেমনটি রয়েছে সাজানোর কথা সেইভাবে সাজাতে হবে।
মায়ের দশটি হাতে যখন এই অস্ত্র-গুলি সাজানো হয়ে থাকে ঠিক এরই সঙ্গে মায়ের বাহন সিংহ রাজ, তার অবস্থান এবং মহিষাসুরের অবস্থান সম্বন্ধেও তথ্যটি সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন। কারণ এই তথ্যের নিরিখে মাকে সাজানো ও মায়ের সম্পূর্ণ পুজো করা হয়ে থাকে।
সুতরাং মা দুর্গার দশটি হাতের মধ্যে প্রথমে ডান হাতে মহিষাসুরকে যে ত্রিশূল দিয়ে মা দুর্গা বধ করেছিলেন সেই ত্রিশূল থাকে মা দুর্গার ডান হস্তে। মা দুর্গার আটটি হাতের মধ্যে তার ডান দিকের প্রথম হাতে থাকবে খরগ, দ্বিতীয় হাতে চক্র তৃতীয় হাতে তীর, চতুর্থ হাতে গোলাকৃতি মধ্যে ভালের কিংবা বল্লমের মতো অস্ত্র, মায়ের বাহাতে প্রথম হাতে থাকে ঢাল, দ্বিতীয় হাতে থাকে ধনুক তৃতীয় হাতে অঙ্কুশ এবং চতুর্থ হাতে ঘন্টা কিংবা কুঠার।
মায়ের এই আটটি হাতে এইভাবে সকল অস্ত্রের সাজসজ্জা থাকে কিন্তু অনেক মন্দিররুপী প্যান্ডেলে কিংবা অনেকের পুজো প্রাঙ্গণে মায়ের মূর্তি অসাধারণ সুন্দর তৈরি করে। এই অস্ত্রের যে নিয়ম যে হাতে রাখার, সেটি বহু ক্ষেত্রে তারা এলোমেলো করে থাকেন। ফলস্বরূপ এটি শাস্ত্রে উল্লিখিত নিয়মের মধ্যে পড়ছে না।
এরই সঙ্গে যখন মা দুর্গার বাহন সিংহের উপর তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন তখন সিংহের বসার যে দিক হবে, সেটি শাস্ত্রে ডানদিক জানানো হয়েছে। আর মহিষাসুরের দিক নির্দেশ বাম দিক জানানো হয়েছে। এদিকে মহিষাসুর এবং সিংহের অবস্থান সঠিক রাখা এবং শাস্ত্রের নিয়ম এখানেই নির্দেশিত রয়েছে।
যেদিকে মা সিংহের উপর পা রেখে দাঁড়াবেন, সিংহ থাকবেন ডান দিকে এবং যেখানে মহিষাসুরকে পদতলে রেখে মা দুর্গা বধ করবেন মহিষাসুর বাম দিক থাকবে। বাঙালির সবথেকে এই পুজোকে কেন্দ্র করে যে আবেগ যে নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই নিয়মকে মেনে প্রত্যেকের উচিত মাকে সাজসজ্জা এবং মায়ের হাতে অস্ত্র সাজানো।
এভাবেই যদি আমরা এই নিয়ম গুলিকে যথাযথভাবে পালন করি তাহলেই মাকে আমরা পুজো করে তাকে সন্তুষ্ট করবার সমস্ত ভাবে সার্বিক প্রয়াস করবার চেষ্টা করতে পারব এবং মায়ের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হওয়ার সৌভাগ্য লাভের চেষ্টা করা যেতে পারবে।
লেখক – শ্রী ভৃগু
