অবাক করার মতো ঘটনা। পোষা মোরগের কামড়ে মৃত্যু ১ ব্যক্তির। মোরগের (Rooster) কামড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। বাড়িতে কাজ করার সময় একটি মোরগ এক ব্যক্তির পায়ে কামড়ে দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর, গত বছর এপ্রিল মাসে মৃত্যু হয় তাঁর।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে কয়েকদিন আগে। মোরগের কামড়ে মৃত ব্যক্তির নাম জাসপার ক্রাউস বলে একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে জাসপার বাড়িতে রান্না করছিলেন। সেই সময় পোষা একটি মোরগ তাঁর পায়ে বেশ কয়েকবার কামড় বসিয়ে দেয়। কামড়ে ফলে ওই আইরিশম্যানের পা থেকে রক্ত ঝরতেও দেখা গিয়েছিল।

এদিকে মোরগের কামড়ে চিৎকার করতে থাকেন ক্রাউস। তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন তাঁর প্রতিবেশী কয়েকজন। ডাকা হয় স্থানীয় চিকিৎসকদের। কিন্তু শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায়, অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলার পর, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ক্রাউস।

এদিকে, অস্বাভাবিক এই মৃত্যুর প্রধান কারণ খুঁজতে পরিবারের তরফে স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই তদন্তের ফল গত ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে আনা হয়। মোরগের কামড়েই ক্রাউসের মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটি তার প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জাসপারের প্রতিবেশী ইয়ন ব্রাউনকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ক্রাউস রান্নাঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন তিনি। মৃত ব্যক্তির পায়ের পিছনে একটি ক্ষত ছিল বলেও জানান ব্রাউন।

বাড়িতে পোষা মুরগির খাঁচা পর্যন্ত রক্তের দাগ ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে ওই প্রতিবেশী জানিয়েছিলেন। শুধু প্রতিবেশী নয়, তদন্তকারীরা ক্রাউসের মেয়ে ভার্জিনিয়াকেও মৃত্যুর কারণ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। সেই সময় ভার্জিনিয়া বাড়িতে ছিলেন না বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন।

তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন বলেও জানান। মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পেলেও, হৃদরোগের সমস্যা ছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন ক্রাউস কন্যা। তদন্তকারীদের তিনি আরও জানিয়েছেন, বাড়িতে ফেরার পর বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। সেই সময় চিকিৎসকরা সিপিআর করছিলেন।

ভার্জিনিয়ার ধারণা, মোরগটি রক্তাক্ত করার পর ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁর বাবা। আর এ জন্য মোরগটিকেই দায়ি করেছেন তিনি। এর আগেও ভার্জিনিয়ার মেয়েকে মোরগটি আক্রমণ করেছিল বলে দাবি করেছেন ক্রাউস কন্যা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *