রাজ্যে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ১৩,২৯৫টি পদ শূন্য: পার্থ

রাজ্যে প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ১৩,২৯৫টি শূন্যপদ রয়েছে বলে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার বিধানসভার প্রথমার্ধে সিপিএম বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী আনিসুর রহমান জানতে চান, প্রাথমিক স্কুলগুলিতে সর্বশেষ কত শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে? বর্তমানে কত শূন্যপদ রয়েছে? পার্থবাবু তার জবাবে বলেন, সর্বশেষ ২০১৭-’১৮ সালে ৪২,৬২১ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া অনেক জটিল। দু’বছর লেগে যায়। ফলে শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে ওই দু’বছরে আবার শূন্যপদ তৈরি হয়ে যায়। নিয়োগ প্রক্রিয়া কখনই এত দীর্ঘতর হওয়া উচিত না। পদ্ধতির পরিবর্তন করা দরকার। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। দপ্তরের অফিসারদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আমরা নতুন আইন আনব। 
আনিসুর রহমান বলেন, আমার মেয়ে এমএসসি’তে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে। সে জানতে চেয়েছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এত দেরি কেন? পার্থবাবু বলেন, এমএসসি’তে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে কেন প্রাথমিকে বসবে? তাহলে কি অন্য জায়গায় সুযোগ পায়নি? আর দেরি কেন হচ্ছে, তা জানতে হলে, যাঁরা আদালতে মামলা করেছেন তাঁদের জিজ্ঞাসা করুন। সঙ্গে সঙ্গে উঠে বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, এমএ, এমএসসি পাশ করেও ছেলেমেয়েরা গ্রুপ ডি’তে পরীক্ষায় বসছেন। গ্রুপ ডি চাকরির পরীক্ষায় ২৪ লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। পার্থবাবু জবাবে বলেন, ৩৪ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কারের দায়িত্ব এখন আমাদের নিতে হয়েছে। তিনি বাম বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যাওয়ার আগে আড়াই লক্ষ চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে আমাদের ঘাড়ে দিয়ে গেছেন। 
সদ্য বিজেপি’তে যোগ দেওয়া দুলাল বর বলেন, আমি নিজেও শিক্ষক। ২০০৪ সালে চাকরি পাই। সেই সময় অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পেয়েছিলাম। এখন অবশ্য সেই সবের বালাই নেই। মেসেজের মাধ্যমে জানানো হয়। এটা কি ঠিক? জবাবে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আগে আপনি ঠিক করুন কোথায় আছেন। এখানে ওখানে তো বদল করে যাচ্ছেন। তবে আমি মনে করি মেসেজ পদ্ধতিটাই ভালো। এর ফলে সময় কম লাগে।