new scam in westbengal

পুজোর আগে বিনামূল্যে নতুন স্মার্টফোন। লোভনীয় এই অফার কার না পেতে ইচ্ছে করে। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এনিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। করোনার জেরে স্কুল কলেজ বন্ধ। তাই পড়াশোনা করতে হচ্ছে অনলাইনে। সেই কারণে রাজ্য সরকার নাকি স্মার্টফোন দেবে। মেসেজের লিঙ্কে ক্লিক করে আবেদন করলেই মিলবে ফোন। যদিও লোভনীয় এই প্রস্তাবে ক্লিক করলেই বিপদ। সাফ হয়ে যেতে পারে অ্যাকাউন্ট।

রাজ্যের পড়ুয়াদের কাছে আসা ভুয়ো মেসেজের লিঙ্ক এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে পুলিসের। ভুয়ো এই লিঙ্কের মাধ্যমে প্রতারণার নয়া ফাঁদ পেতেছে সাইবার চক্রীরা। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সচেতন করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেছেন সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন- বিশেষ কিছু নিয়মে শরীর আজীবন সুস্থ থাকবে, জেনে নিন আজই নিয়ম গুলি

জানা গিয়েছে, অণ্ডালের উখড়ার একটি সাইবার ক্যাফেতে এই সংক্রান্ত ফর্ম ফিল আপ হচ্ছে বলে খবর রটে যায়। যা বিডিওর কান পর্যন্ত পৌঁছয়। তিনি পুলিসকে দিয়ে তদন্ত করাতেই জানা যায় বহু পড়ুয়ার কাছেই এই ধরনের এসএমএস আসছে। যার কোনও সারবত্তা নেই। অনেকেই প্রলুব্ধ হয়ে সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে আবেদনও করছেন। অণ্ডালের বিডিও ঋত্বিক হাজরা বলেন, বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের। এভাবে রাজ্য সরকারের নাম নিয়ে স্মার্টফোন দেওয়ার ভুয়ো মেসেজ আসা একেবারেই কাম্য নয়। আমি পুলিসকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পড়ুয়াদের প্রতি যথেষ্ট উদার। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, শিক্ষাশ্রী, সবুজসাথী সহ রাজ্যের পড়ুয়াদের সহযোগিতার জন্য রয়েছে নানা প্রকল্প। এছাড়াও প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের জন্যও সরকারি নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে সাইবার প্রতারকরা। করোনা আবহে রাজ্যের স্কুল কলেজ বন্ধ। যতটুকু পড়াশোনা হচ্ছে তা অনলাইনে। যার জন্য প্রয়োজন স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ। কিন্তু বহু পড়ুয়ার কাছেই তা নেই। সেই কারণে রাজ্য সরকার তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতারকরা পড়ুয়াদের মেসেজ পাঠাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই মেসেজ যাচ্ছে অভিভাবকদের কাছে। ওই মেসেজেই লুকিয়ে রয়েছে বিপদ। ফর্মের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্যও। তাই সহজেই পড়ুয়া বা অভিভাবকদের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। তাই আগেআগেই সতর্ক রয়েছে পুলিস ও প্রশাসন।

বিষয়টি নজরে আসতেই অণ্ডালের উখড়ার ওই সাইবার ক্যাফের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিসের দাবি, তিনি প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত নন। পড়ুয়ারা মেসেজটি দেখিয়ে ফর্ম ফিল আপ করতে বলার পরই তিনি তা করেছেন। তারজন্য প্রত্যেক পড়ুয়ার কাছ থেকে ত্রিশ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

তবে সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞদের সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যজুড়েই এই ভুয়ো মেসেজ ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু জায়গায় প্রতারণার ঘটনাও ঘটেছে। কোনও ভাবেই এই ভুয়ো লিঙ্কে গিয়ে ফর্ম ফিল আপ করা চলবে না। কারণ রাজ্য সরকার এরকম কোনও স্কিম এখনও চালু করেনি।

তবে, এই প্রতারণা চক্রটি রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি জামতাড়ার সাইবার চাঁইরা এই নতুন ফন্দি এঁটেছে তা তদন্ত করে দেখছে পুলিস। বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড সীমানার পার্শ্ববর্তী বেশ কিছু জেলায় এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া কলকাতা ও শহরতলিতেও এই মেসেজ পাঠানোর ঘটনা ঘটছে বলে পুলিস সূত্রে খবর। এসিপি সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।